রাফাহ, মিশর
মিশরীয় রেড ক্রিসেন্টের প্রধান আমাল ইমাম জানিয়েছেন, সব প্রক্রিয়া আগে থেকেই সমন্বিত ও অনুমোদিত থাকলেও, বহু ত্রাণ চালান সীমান্তে পৌঁছে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
রাফাহ সীমান্তে, মিশরের মরুভূমিতে শত শত ত্রাণবাহী ট্রাক দিনের পর দিন আটকে আছে।
গাজায় চলমান মানবিক সংকটের মধ্যেও ইসরায়েল সীমিত সংখ্যক ট্রাককে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে।
প্রায় দুই বছর ধরে চলা সংঘাতের পর জাতিসংঘ-সমর্থিত বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে গাজায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে। বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধের অভাবও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
তবে ত্রাণকর্মীদের মতে, এমন সংকটের মাঝেও জরুরি সরবরাহের প্রবাহ অত্যন্ত ধীরগতির এবং অনিয়মিত। জাতিসংঘের চার কর্মকর্তা, কয়েকজন ট্রাকচালক এবং মিশরীয় রেড ক্রিসেন্টের এক স্বেচ্ছাসেবক জানান, জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জাম, পানির পরিকাঠামোর যন্ত্রাংশ ও আশ্রয় উপকরণ সবকিছু প্রবেশে ইসরায়েলের বাধা রয়েছে।
তাদের মতে, অনেক সরবরাহ “দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য” হওয়ার অজুহাতে প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে, যার অর্থ এগুলোর সামরিক ব্যবহার সম্ভব হতে পারে। এমনকি ছোটখাটো প্যাকেজিং ত্রুটিও প্রত্যাখ্যানের কারণ হচ্ছে।
ফরাসি দাতব্য সংস্থা Médecins Sans Frontières (MSF)-এর গাজার জরুরি বিভাগের প্রধান আমান্দে বাজেরোল বলেন, “কেবলমাত্র ধাতব বস্তু হওয়ায় অনেক উপকরণ প্রবেশের অনুমতি পায় না।”
জাতিসংঘ গাজায় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবের কথা বললেও, মিশরের দিকে নিবিড় পরিচর্যার যন্ত্রপাতি ভর্তি ট্রাক রোদে পুড়ে যাচ্ছে, শুধু এই কারণে যে একটি প্যালেট কাঠের বদলে প্লাস্টিকের তৈরি।
অন্য এক স্বেচ্ছাসেবক জানান, “কোনও প্যালেট তির্যক, বা মোড়ানো যথাযথ নয়, এইসব অজুহাতে ত্রানের চালান ফিরিয়ে দেওয়া হয়।”
আমাল ইমাম আরও বলেন, “আপনি জাতিসংঘের অনুমোদন নম্বর লাগানো একটি চালান পাঠাতে পারেন, যেটি COGAT এবং অন্যান্য পক্ষ অনুমোদন করেছে, তবুও সীমান্তে গিয়ে তা ফেরত আসে, কোনও ব্যাখ্যা ছাড়াই।”
উল্লেখ্য, COGAT হলো ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ একটি সংস্থা, যা ফিলিস্তিনি অঞ্চলে বেসামরিক কার্যক্রম তদারকি করে।
ইমাম জানান, নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং দুরূহ কাজ। “একজন মানবতাবাদী হিসেবে, আমি এমন প্রতিবন্ধকতা আগে কখনও দেখিনি—শেষ ইঞ্চি পর্যন্তও।”
এমনকি সাধারণ ওষুধ, যেমন আইবুপ্রোফেন, গাজায় পৌঁছাতে এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ রেফ্রিজারেটেড কন্টেইনার অনুমোদন না দেওয়ায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে (WHO) তাপমাত্রা সংবেদনশীল ইনসুলিনসহ অন্যান্য ওষুধ সাধারণ ট্রাকে নিয়ে আসতে বাধ্য করা হচ্ছে।
সোমবার, একটি তাঁবুর গুদামে দেখা গেছে হুইলচেয়ার, অক্সিজেন ট্যাঙ্ক, পোর্টেবল টয়লেট এবং জেনারেটর ধুলায় ঢাকা অবস্থায় পড়ে আছে। প্রত্যাখ্যানের কয়েক মাস পরও সেগুলোর প্রবেশ অনুমোদন মেলেনি।
জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা বলেন, “এটা এমন একটি অবস্থা, যেন মানবতার প্রতীক হিসেবে যা কিছু থাকতে পারে, তা তারা ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখছে।” তিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থাকেন, কারণ তার প্রেসের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি ছিল না।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় সংস্থা (OCHA)-এর মুখপাত্র ওলগা চেরেভকো জানান, নিষিদ্ধ সামগ্রীর তালিকা “পাতার পর পাতা।”
ত্রাণবাহী ট্রাক চালকেরা বলছেন, একই রকম সরবরাহ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য ট্রাকগুলোর দিকে তাকিয়ে তারা দীর্ঘ সময় পার করেন, কোনও ব্যাখ্যা ছাড়াই কখনও কারও অনুমতি মেলে, কারও আবার ফেরত পাঠানো হয়।
মিশরীয় চালক মাহমুদ এল-শেখ বলেন, “গতকাল ৩০০ ট্রাক ফেরত পাঠানো হয়েছে। মাত্র ৩৫টি ট্রাককে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “সবকিছু নির্ভর করছে তাদের ইচ্ছার ওপর।”
আরেক চালক হুসেইন গোমা জানান, প্রতিরাতে প্রায় ১৫০টি ট্রাক সীমান্তে অপেক্ষা করে, কিন্তু সকালে ইসরায়েলিরা ইচ্ছামতো কিছু ট্রাক পরীক্ষা করে, বাকিগুলো ফিরিয়ে দেয়।
AFP স্বাধীনভাবে প্রতিদিন মিশর থেকে গাজায় কত ট্রাক প্রবেশ করছে তা যাচাই করতে পারেনি।
WHO-এর একজন কর্মকর্তা জানান, প্রতিদিন সর্বাধিক ৫০টি ট্রাক গাজায় প্রবেশ করছে।
তবে মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি বলেন, প্রতিদিন ১৩০ থেকে ১৫০টি ট্রাক, কখনও ২০০টি পর্যন্ত প্রবেশ করছে যা চাহিদার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ।
“এটি একটি কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ,” বলেন আবদেলাত্তি। তিনি জানান, সীমান্তে এখন ৫,০০০-এরও বেশি ট্রাক অপেক্ষমাণ।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ যদিও সাহায্য আটকে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছে, COGAT গত সপ্তাহে X-এ এক পোস্টে দাবি করে, ইসরায়েল মানবিক সহায়তা সহজতর করছে এবং হামাস এই সাহায্যের অপব্যবহার করছে। তাদের মতে, বুধবার একদিনেই ৩৮০টি ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে।
তবে MSF সতর্ক করে বলেছে, ত্রাণ প্রবেশে বাধার কারণে বহু জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে। আহতদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্ক্যাল্পেল বা ফিক্সেটরের মতো জরুরি উপকরণ গাজায় পাঠানো যাচ্ছে না।
“মানুষ অঙ্গ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে, কারণ মৌলিক চিকিৎসা সরঞ্জাম আমাদের হাতে নেই,” বলেন বাজেরোল।
তিনি আরও বলেন, “আমরা তিন থেকে পাঁচ মাসের জন্য যে সরঞ্জাম অর্ডার করি, তা দু’মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়।”
আরো পড়ুন- পুতিন ও জেলেনস্কির মধ্যে শান্তি চুক্তির জন্যে বৈঠক আয়োজনে কাজ শুরু করেছি: ট্রাম্প
নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তে সবাই অসন্তুষ্ট, তবু এগিয়ে যাচ্ছে গাজা দখলের পরিকল্পনা
ইসরায়েলের ফিলিস্তিন দখল পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও ঘর ছাড়তে অস্বীকৃতি গাজাবাসীর
আলোচনা ব্যর্থ, রুশ তেল আমদানি চালিয়ে গেলে ভারতকে ৫০% শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের
সকল অপরাধের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন শেখ হাসিনা
সংসদের সামনে “জুলাই ঘোষণাপত্র” পাঠের জন্য সরকার কর্তৃক ফ্রি ট্রেন সুবিধা প্রদান
আওয়ামী লীগ অপকর্ম করতে চাইলে ছাড় পাবে না : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আন্তর্জাতিক চাপ বাড়লেও, কার্যকর ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র বাস্তবায়ন এখনও অনিশ্চিত
ট্রাম্পের ট্যারিফ এমেরিকাকে ধনী করবে- মন্তব্য ট্রাম্পের
স্পেনে ১০ বছরের সন্তানকে বিমানবন্দরে রেখে ছুটি কাটাতে উড়াল দিলেন বাবা-মা!
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।