অনুসরণ করুন
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
Google Play App Store
অন্যান্য উদ্যোগ
ট্রেন্ডিং

নেপালের অন্তবর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হলেন সুশীলা কার্কি

ফন্ট সাইজ:
Shares

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের ৮ ও ৯ তারিখে জেন-জিদের নেতৃত্বে সংঘটিত আন্দোলন, নেপালের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। দুর্নীতি নির্মূল, সুষ্ঠু শাসন এবং বন্ধ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পুনরায় চালুর দাবিতে শুরু হওয়া শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হঠাৎই রুপ নেয় সহিংসতায়।

ঐ সহিংসতায় অন্তত ৫৫ জনের প্রাণহানি ঘটে (কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা ৭২)। আহত হয়েছেন আরও শত শত মানুষ। সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে কয়েক বিলিয়ন রুপি। যা বিগত আন্দোলনের (২০০৭, ২০৪৬ ও ২০৬৩ বিসি) তুলনায় অনেক বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া এ বিক্ষোভের মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই কেপি শর্মা ওলির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার পতন ঘটে দেশটিতে। নেপালের অন্তবর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হয় দেশের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি কে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার সামনে রয়েছে বড় সুযোগ। একই সঙ্গে রয়েছে চ্যালেঞ্জও। এ সময়টি দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও নাজুক গণতন্ত্রের জন্য তার পরীক্ষার মুহূর্ত। নতুন নেপালের ভবিষ্যৎ রচনার গুরুদায়িত্ব এখন তার কাঁধেই। 

এই আন্দোলন প্রমাণ করেছে, দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতিগ্রস্ত পুরোনো রাজনৈতিক নেতারা জনগণের উন্নয়ন ও চাকরির আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে নিজেদের মধ্যে ক্ষমতা বিনিময় করে এসেছেন। এখন তাদের জন্য দুটি পথ আছে- জনতার আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য নিজেকে সংস্কার করা অথবা রাজনৈতিক জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলা। এদিকে সুশীলার জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো, অতীত সরকারের দুর্নীতি কেলেঙ্কারি তদন্তের জন্য একটি শক্তিশালী কমিশন গঠন, বিক্ষোভ চলাকালীন হত্যা ও সম্পত্তি ধ্বংসের তদন্ত করা এবং বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং ২০২৬ সালের ৫ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনের জন্য দেশকে প্রস্তুত করা। তরুণরা বিশ্বাস করেন, সুশীলার নেতৃত্বাধীন সরকার পরিবর্তন আনতে পারবে। তবে নতুন সরকারকে পরিকল্পিতভাবে একটি নতুন যাত্রা শুরু করতে হবে, যা নেপালি রাষ্ট্রের ভবিষ্যত অস্তিত্ব নির্ধারণ করবে। অন্তর্বর্তী সরকারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা এবং সংবিধান রক্ষা করা। সুশীলাকে অবিলম্বে দমনমূলক উদ্দীপনা বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে হবে। সাধারণ নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ ও সহযোগিতাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। 

রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘উন্নত গণতন্ত্রের’ দিকে অগ্রসর হওয়ার জন্য সংবিধান সংশোধন অপরিহার্য। দেশের স্বার্থে সকল রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়া জরুরি। এছাড়া দেশ পুনর্গঠনের জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। এর জন্য অভ্যন্তরীণ সম্পদ সক্রিয় করা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগীতাও প্রয়োজন। 

কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কৃষি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা অপরিহার্য। কারণ দেশের অর্থনীতির মূল স্তম্ভ কৃষি। যা জনসংখ্যার ৬৬ শতাংশ মানুষকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেয় এবং মোট দেশজ উৎপাদনের ২৫ শতাংশে অবদান রাখে। বেকারত্ব কমাতে পর্যটন একটি বিকল্প পন্থা। ২০২৪ সালে ১.১৫ মিলিয়ন বিদেশী পর্যটক নেপাল সফর করেছেন। যা ২০২৩ সালের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেড়েছে। পর্যটন উন্নয়নের জন্য স্পষ্ট নীতি, পরিকল্পনা ও নির্দেশিকা প্রণয়ন অপরিহার্য। একইভাবে নেপাল জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও অতি সম্ভাবনাময়। সর্বশেষ গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের সম্ভাব্য জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৮৫,০০০ মেগাওয়াট। তবে বর্তমানে মাত্র ৮-১০ শতাংশ ব্যবহার করা হচ্ছে। কৃষি ও শিল্পের মতো খাতগুলোতে পর্যাপ্ত দেশীয় ও বিদেশী বিনিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। আফসোসের বিষয়, ১১০ বছরেরও বেশি সময় বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরও নেপালের বিদ্যুৎ উৎপাদন চাহিদা পূরণে সক্ষম হয়নি। নেপালের ভবিষ্যৎ গঠনের জন্য কৃষি, পর্যটন ও জলবিদ্যুতের উন্নয়ন এবং দুর্নীতি রোধই প্রধান চাবিকাঠি। নতুন প্রধানমন্ত্রী সুশীলার নেতৃত্বে যুবসমাজের প্রত্যাশা পূরণের জন্য এটি এক ঐতিহাসিক সুযোগ।

সুশীল ধর্নাল : ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি অব নেপালের গোল্ড মেডেলিষ্ট জার্নালিষ্ট

আরোও পড়ুন: ঢাকার কোন আসন থেকে নির্বাচন করবেন জানালেন ওসমান হাদি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top