দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত (বিডিএক্সপ্রেস) — ২৫ বছরেরও বেশী সময় ধরে রাজ্যের শীর্ষ ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের নামাজ পড়িয়েছেন এবং সৌদি আরবের মত মুসলিম দেশকে সামাজিকভাবে যিনি উদারপন্থী করে তুলেছিলেন, তিনি সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ আব্দুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ আল-শেখ, আজ মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫) মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৮০+।
গ্র্যান্ড মুফতি হিসেবে শেখ আব্দুল আজিজ সুন্নি মুসলিমদের বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ইসলামিক ধর্মগুরুদের একজন হয়ে উঠেছিলেন। পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনায় অবস্থিত সৌদি আরব, জীবনে একবার সুস্থ-সবল মুসলিমদের জন্য প্রয়োজনীয় বার্ষিক হজ তীর্থযাত্রার আয়োজন করে।

তা সত্ত্বেও, সাম্প্রতিক আল সৌদের মহিলাদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেয়া, সিনেমা হল খোলা এবং সামাজিকভাবে আরও বিভিন্ন ইসলাম পরিপন্থী পদক্ষেপকে তিনি নিন্দা জানিয়েছেন। ইসলামিক স্টেট গ্রুপ এবং আল-কায়েদার মতো চরমপন্থীদেরও নিন্দা করেছেন তিনি। এমনকি গ্র্যান্ড মুফতি থাকাকালীন তিনি বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক ঘোষণাও দিয়েছিলেন।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কোনও কারণ ছাড়াই শেখ আব্দুল আজিজের মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেছে। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মঙ্গলবার রাতে রিয়াদে প্রয়াত মুফতির জানাজায় অংশ নেন।
এক বিবৃতিতে সৌদি রাজ্য আদালত বলেছে, “রাজ্য এবং ইসলামী বিশ্ব এমন একজন বিশিষ্ট পণ্ডিতকে হারালো যিনি ইসলাম ও মুসলমানদের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন”।
১৯৯৯ সালে সৌদি বাদশাহ ফাহাদ কর্তৃক গ্র্যান্ড মুফতি নিযুক্ত হন শেখ আব্দুল আজিজ। সেসময় রাজ্য ছিল বিচ্ছিন্ন এবং জনগণ ছিল ইসলামধর্মীয় কমিটি কর্তৃক কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। গ্র্যান্ড মুফতির পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০০৪ সালে মোবাইল ফোন ক্যামেরার নিন্দা করা হয়। তাদের এরুপ নিন্দার কারণ ছিলো, সম্ভবত “সম্প্রদায়ের মধ্যে পাপের ছবি ধারণ করা এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যই মোবাইল ফোন ক্যামেরা আনা হয়েছে “।
এক বাইজেন্টাইন সম্রাট মুহাম্মদ (সঃ) এর কিছু শিক্ষাকে “মন্দ এবং অমানবিক” বলেছিলেন। তখন অন্যান্য ইসলামী নেতাদের সাথে যোগ দিয়ে এধরনের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছিলেন তিনি ।
২০১২ সালে কুয়েতের খ্রিস্টান গির্জা সম্পর্কে একটি প্রশ্নের উত্তরে, শেখ আব্দুল আজিজ বলেছিলেন “এই অঞ্চলের সমস্ত গির্জা ধ্বংস করা প্রয়োজন।”
২০১৫ সালের হজে পিষ্ট ও পদদলিত হয়ে ২,৪০০ জনেরও বেশি তীর্থযাত্রীর মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সৌদি আরবের আচরণের কঠোর সমালোচনা করার পর শেখ আব্দুল আজিজ শিয়াদের ইসলামে বিশ্বাস সম্পর্কে বলেছিলেন, “আমাদের বুঝতে হবে তারা মুসলিম নয়, কারণ তারা মাজুদের বংশধর, এবং মুসলমানদের, বিশেষ করে সুন্নিদের প্রতি তাদের শত্রুতা অনেক পুরনো”। উল্লেখ্য “মাজু” শব্দ জরথুস্ত্রীয়। এর অর্থ যারা আগুনের উপাসনা করে ।
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লব ইরানে প্রভাব ফেলে এবং শিয়া ধর্মতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। সেসময়ের পর থেকে শেখ আব্দুল আজিজ সর্বদা আল সৌদ পরিবারকে বিভিন্নভাবে সামাজিক সমর্থন দিয়ে গেছেন।
তিনি ২০০৭ সালে ইসলামী চরমপন্থীদের “ভুয়া জিহাদের” নিন্দা করেছিলেন। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আল-কায়েদার হামলার পর বহু বছর ধরে সৌদি আরব রাজ্যে জঙ্গি বিদ্রোহের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। ইসলামিক স্টেট (আইএস) কে “ইসলামের ১ নম্বর শত্রু” বলেও অভিহিত করেছিলেন তিনি। তিনি বলেছিলেন
২০১৪ সালে সৌদি আরবে হামলার পর, তিনি আরও বলেছিলেন: “আমরা একই রাজ্যে বাস করি, একটি একক সরকারের অধীনে থাকা নিরাপদ এবং স্থিতিশীল। এতে আমরা একত্রিত থাকতে পারবো।”
কিন্তু বাদশাহ সালমান এবং ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদের উত্থানের ফলে শেখ আব্দুল আজিজ তার সামাজিক অবস্থানে কঠোর থাকতে পারেননি। বিশেষ করে পুরুষ ও মহিলাদের মিশ্রণের বিষয়ে, যাকে তিনি একসময় “মন্দ এবং বিপর্যয়” বলেছিলেন। মহিলাদের গাড়ি চালানোকে “বিপজ্জনক” বলেও অভিহিত করেছিলেন। তিনি আরোও বলেছিলেন ” ১০ বছরের কম বয়সী মেয়েদের বিবাহ হতে পারে।” তিনি ” দাবা ” খেলাকে জুয়ার সাথে তুলনা করেছিলেন।
২০১৮ সালে, সৌদি আরব মহিলাদের গাড়ি চালানোর উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়, যা শেখ আব্দুল আজিজ পরে সমর্থন করেছিলেন। সিনেমা হল খোলার সাথে সাথে ভাইস কমিশন তার প্রভাব হারায় এবং মহিলারা আরও বেশি চাকরি নেয়া শুরু করে। ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদের সামাজিক প্রচারণার গতি বাড়ার সাথে সাথে শেখ আব্দুল আজিজের প্রভাব হ্রাস পায়।
“বাণিজ্যকে” এখন অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে-সিরিল রামাফোসা
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।