অনুসরণ করুন
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
Google Play App Store
অন্যান্য উদ্যোগ
ট্রেন্ডিং

জাতিসংঘের পুনর্বহাল নিষেধাজ্ঞায় ইরানের প্রতিক্রিয়া কি?

ফন্ট সাইজ:
Shares

দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত (বিডিএক্সপ্রেস) —

পারমাণবিক কর্মসূচির উপর জাতিসংঘের পুনর্বহাল নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়া ইরান কীভাবে জানাবে তা নিয়ে চলছে আলোচনা।

এক আইনপ্রণেতা বলছেন, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি থেকে ইরান সম্ভবত প্রত্যাহারের কথা বিবেচনা করবে।

আলোচিত “স্ন্যাপব্যাক” নিষেধাজ্ঞার কারণে আবারও বিদেশে ইরানের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে, তেহরানের সাথে অস্ত্র চুক্তি বন্ধ হয়েছে এবং ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতেও বাধা দেয়া হচ্ছে। বিশ্বশক্তিগুলোর সাথে ইরানের ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির সময়ই এই নিষেধাজ্ঞার কথা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ইরানের অর্থনীতি ইতিমধ্যেই ধাক্কা খাওয়ার পর্যায়ে এসেছে। ইরানের মুদ্রা রিয়াল রয়েছে রেকর্ড নিম্নমানে, যা খাদ্যের দামের উপর প্রভাব ফেলছে এবং এতে দৈনন্দিন জীবন হচ্ছে আরও চ্যালেঞ্জিং। নিত্যপণ্য অনেক কিছুই বাড়তি দামের দিকে যাচ্ছে। এদিকে, জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় আঘাত হানা ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলি এখন পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে, তাই ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যে নতুন দফা যুদ্ধের সম্ভাবনা রয়েছে, সেইসাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথেও তৈরী হচ্ছে বিরোধ।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরএনএ’ র সাথে সম্পর্কিত ইয়ং জার্নালিস্টস ক্লাবের সাথে কথা বলতে গিয়ে আইনপ্রণেতা ইসমাইল কাওসারি বলেন, পার্লামেন্ট পারমাণবিক চুক্তি প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা করবে।

রাষ্ট্র পরিচালিত আইআরএনএ সংবাদ সংস্থার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, রবিবার সংসদের বৈঠক শুরু হওয়ার সাথে সাথে সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ বলেন,

“আমরা ঘোষণা করছি, যদি কোনও দেশ জাতিসংঘের এধরনের অন্যায় প্রস্তাবের ভিত্তিতে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চায়, তাহলে ইরানের কাছ থেকে গুরুতর প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং এই অবৈধ পদক্ষেপের সূচনাকারী তিনটি ইউরোপীয় দেশও ( ফ্রান্স, জার্মানি এবং যুক্তরাজ্য ) আমাদের প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হবে”।

ট্রাম্পের প্রতি পাল্টা আঘাত ইরানের
ট্রাম্পের প্রতি পাল্টা আঘাত ইরানের

ইরান চুক্তি থেকে সরে আসার কথা ভাবছে

৩০ দিন আগেই ফ্রান্স, জার্মানি এবং যুক্তরাজ্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার উদ্দেশ্যে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় রাজি না হবার কারণে ইরানের উপর স্ন্যাপব্যাক শুরু করে।

জুনে ইসরায়েলের সাথে ইরানের যুদ্ধের পর, ইরান আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার IAEA পর্যবেক্ষণ থেকে সরে আসে। এরপরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়।

এদিকে, ৬০% বিশুদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ আছে ইরানের – প্রযুক্তিগত সক্ষমতা সহ ৯০% অস্ত্র-গ্রেড স্তরে আছে। যা তেহরানের বেশ কয়েকটি পারমাণবিক বোমা তৈরির পক্ষে যথেষ্ট।

ইরান দীর্ঘদিন ধরেই বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, যদিও পশ্চিমা দেশগুলো এবং IAEA (International Atomic Energy Agency) বলেছে যে তেহরানের ২০০৩ সাল পর্যন্ত একটি সংগঠিত অস্ত্র কর্মসূচি ছিল।

ফ্রান্স, জার্মানি এবং যুক্তরাজ্য – এই তিন ইউরোপীয় দেশ রবিবার বলেছে যে তারা “স্ন্যাপব্যাক” আটকাতে চেয়েছিল।” কিন্তু ইরান IAEA (International Atomic Energy Agency) পরিদর্শকদের ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলিতে পুনরায় প্রবেশ করার অনুমতি দেয়নি, এমনকি উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদের হিসাব সম্পর্কিত প্রতিবেদন তৈরি করেনি এবং IAEA (International Atomic Energy Agency) – তেও পাঠায়নি।”

দেশগুলি আরও উল্লেখ করেছে যে ইরান এমন স্তরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে যা অন্য কোনও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করে না।

ইয়াং জার্নালিস্টস ক্লাব জিজ্ঞাসা করেছিল, বিশ্ব-শক্তিশালীদের ঐ চুক্তি থেকে ইরানের এমন প্রত্যাহারের অর্থ কি পারমাণবিক বোমা তৈরির দিকে অগ্রসর হওয়া ?
কাউসারি বলেন: “না, এর অর্থ তা নয়। এই বিষয়টি পরে আলাদাভাবে পর্যালোচনা করা হবে এবং এটাকে একটা এজেন্ডা বলা যেতে পারে।”

তেহরান বলেছে ‘স্ন্যাপব্যাক’ হওয়া অনুচিত

তেহরান যুক্তি দিয়েছে, ঐ তিনটি ইউরোপীয় দেশকে স্ন্যাপব্যাক বাস্তবায়নের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। উল্লেখ্য, আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে 2018 সালে চুক্তি থেকে এমনভাবেই একতরফা প্রত্যাহার করেছিল।

নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে কথা বলার সময়, জাতিসংঘের এধরনের নিষেধাজ্ঞার আদত প্রভাবকে খাটো করে দেখার চেষ্টা করেছিলেন।

শনিবার রাতে আরাঘচি বলেন, “এর কিছু ক্ষতি আছে, আমাদেরও কিছু ক্ষতি হবে”। “তবে, তারা তাদের নিজস্ব মিডিয়াতে একে বাস্তবের চেয়ে অনেক বড় এবং অনেক বড় কিছু হিসেবে উপস্থাপন করেছে। ইরানি জনগণকে ভীত করার জন্য একে দানব হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে এবং তারপর আমাদের সরকার এবং আমাদের পররাষ্ট্রনীতিকে এবিষয়ে ছাড় দিতে এবং শ্রদ্ধা জানাতে বাধ্য করতে চাইছে।”

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য ঐ তিনটি ইউরোপীয় দেশের প্রশংসা করে তাদের বলেছেন, “বৈশ্বিক নেতৃত্বের পদক্ষেপ নির্ধারক” এবং বলেছেন “বিকল্প রয়েছে কূটনৈতিক পদক্ষেপ ।”

“কুটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হলে, ইরানকে সরাসরি আলোচনায় সম্মত হতে হবে”।

তবে, (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫) রবিবার তেহরান কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ওয়াশিংটন-ভিত্তিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সমিতির পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ কেলসি ডেভেনপোর্ট বলেছেন, “ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে ইরানে পারমাণবিক স্থাপনার হামলার পরও তাদের হাতে আরও শক্তিশালী আক্রমণের সুযোগ রয়েছে, তাই ইরানকে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার টেবিলে পাওয়ার অপেক্ষা করছে”। ” তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় বুদ্ধিমত্তা এবং ইরানে থাকা অস্ত্র উপকরণ বিবেচনায়, এরকম অনুমান করা অত্যন্ত বিপজ্জনক।”

তিনি আরও বলেন, ইরানের জন্যও ঝুঁকি রয়ে গেছে।

“ক্ষণস্থায়ীভাবে, IAEA কে বহিষ্কার করলে এরকম দোষারোপের সুযোগ তৈরি হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল এই বিষয়টিকে পুনরায় হামলার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে পারে”।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top