শুক্রবার, হামাস ডোনাল্ড ট্রাম্পের “২০-দফা গাজা শান্তি পরিকল্পনা” এর প্রতি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গাজা শাসন ব্যবস্থাকে একটি টেকনোক্র্যাটিক সরকারের হাতে হস্তান্তর এবং
ফিলিস্তিনি বন্দীদের বিনিময়ে সব ইসরায়েলি বন্দী মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি।
ট্রাম্প এই প্রতিক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং ইসরায়েলকে “অবিলম্বে বোমা হামলা বন্ধ করতে” আহ্বান জানিয়েছেন। তবে, হামাস তাদের প্রতিক্রিয়া জানাবার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে,
ইসরায়েলি বিমান হামলায় গাজায় কমপক্ষে ৯৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
ট্রাম্পের পরিকল্পনা কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে, তবে তা শান্তির পথ তৈরী করতে সক্ষম হবে না।
শান্তি স্থাপনের জন্য একটি পরিকল্পনা দরকার, যা ইসরায়েলের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং তার গণহত্যামূলক অভিযান বন্ধ করবে।
ইসরায়েলের জন্য ১০-দফা প্রস্তাবঃ
১. ইসরায়েলি রাজনীতি এবং জনসাধারণের মানসিকতার মধ্যে উগ্রপন্থা ও সহিংসতা প্রশমিত করতে হবে।
গত ২৪ মাস ধরে ইসরায়েলি রাজনৈতিক নেতারা গাজার ওপর হামলার উল্লাস দেখিয়ে আসছেন, যা রাষ্ট্রীয় শিক্ষা ব্যবস্থা এবং জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে সহনশীলতা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মূল্যবোধ প্রচারের জন্য কার্যকর কর্মসূচি দাবি করে।
২. ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা এবং তাদের জীবনযাত্রা ধ্বংস করার নেশা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মধ্যে গভীরভাবে আকড়ে আছে। তাই, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী একটি নতুন সামরিক আচরণবিধি প্রণয়ন করা অত্যন্ত জরুরি।
৩. ইসরায়েলি রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচার করা উচিত।
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজ সংগঠন, মানবাধিকার গোষ্ঠী এবং কর্মীরা ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের প্রকৃতি সম্পর্কে প্রমাণ সংগ্রহ করছেন। এই প্রমাণাধি আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তি হতে পারে।
৪. ২০০৭ সাল থেকে গাজায় যে (স্থল, আকাশ, সমুদ্র) অবরোধ চলমান, তা অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে,
এবং মানুষের জন্য অবাধ চলাচল ও নিত্যপন্য সরবরাহের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
৫. গাজায় একটি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক বাহিনী বা প্রতিরক্ষামূলক বাহিনী মোতায়েন করা জরুরি,
যারা নিশ্চিত করবে যে ইসরায়েলি সেনারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে না।
৬. ২০২৪ সালের আন্তর্জাতিক আদালতের রায় অনুযায়ী, ইসরায়েলি বসতি স্থাপন আন্তর্জাতিক আইন বিরোধী,
তাই এই সমস্ত বসতি স্থাপনের কার্যক্রম বন্ধ করা আবশ্যক।
৭. পশ্চিম তীর এবং জেরুজালেমে সামরিকীকরণ ও দখলবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে,
যাতে সেখানকার ফিলিস্তিনিদের ভূমির অধিকার রক্ষা করা যায়।
৮. ইসরায়েলি প্রশাসনিক আটকের নীতি বাতিল করতে হবে এবং আটক ফিলিস্তিনিদের মুক্তির জন্য একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।
৯. ইসরায়েলকে অবশ্যই ফিলিস্তিনিদের প্রত্যাবর্তনের অধিকারের বিষয়ে আলোচনা করতে হবে,
যেখানে দেশটির ভেতরের ও বাইরের সকল ফিলিস্তিনির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হবে।
১০. ইসরায়েল তার আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টাগুলি নিবিড়ভাবে শক্তিশালী করছে।
তবে, এটি যাচাই করা দরকার যে এসব প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী কিনা।
বিশ্বজুড়ে মানুষ এখন বুঝতে শুরু করেছে যে ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান একা ফিলিস্তিনিদের নয়,
বরং বিশ্বজুড়ে বৃহত্তর শান্তির প্রশ্ন।
মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যাগুলি যাতে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান হয়, তার জন্য বিশ্বকে একযোগিতায় কাজ করতে হবে।
এই ১০ দফার প্রস্তাব ইসরায়েল এবং তার মিত্রদের কাছে চ্যালেঞ্জ হতে পারে, কিন্তু এটি শান্তির পথ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
যুক্তরাষ্ট্রে টানা পঞ্চম দফায়ও ব্যয় বিল পাসে ব্যর্থ সিনেট, শাটডাউন অব্যাহত
পাকিস্তানে উন্নত মানের ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি করবে যুক্তরাষ্ট্র
কোন ক্ষমতায় যুদ্ধ থামাচ্ছেন, জানালেন ট্রাম্প
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।