দার এস সালাম, ৩০ অক্টোবর ২০২৫, তানজানিয়ার সাধারণ নির্বাচনের একদিন পর বৃহস্পতিবার রাজধানী দার এস সালামে নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেছে।
বুধবার ভোটগ্রহণ চলাকালে দার এস সালামসহ আরও কয়েকটি শহরে সহিংসতা দেখা দেয়। প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসানের দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীকে অযোগ্য ঘোষণার পর ক্ষুব্ধ সমর্থকরা রাস্তায় নেমে আসে। পাশাপাশি সরকারবিরোধীদের ওপর ক্রমবর্ধমান দমনপীড়নের অভিযোগে বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭০ মিলিয়নেরও বেশি জনসংখ্যার এই দেশের বৃহত্তম শহর দার এস সালামে বৃহস্পতিবার রাতভর কারফিউ জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সারা দেশে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রয়েছে।
বুধবারের বিক্ষোভে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, শুধুমাত্র দার এস সালামেই কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় তানজানিয়া ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (TBC) পরিস্থিতির বিষয়ে সীমিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে জানিয়েছে, প্রাথমিক ফলাফলে প্রেসিডেন্ট হাসান বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় এগিয়ে আছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবারও দার এস সালামের এমবাগালা, গঙ্গো লা এমবোটো ও কিলুভিয়া এলাকায় কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী রাস্তায় নামলে পুলিশ টিয়ারশেল ও গুলি চালায়।
ব্রিটেনের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (FCDO) জানিয়েছে, দার এস সালাম, আরুশা এবং মাউন্ট কিলিমাঞ্জারোর কাছের বিমানবন্দরগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
মোবাইল অ্যাপ Zello তে (যা ওয়াকি টকির মতো কাজ করে) বিক্ষোভকারীদের মধ্যে নতুন মার্চ ও সরকারি ভবনের সামনে সমাবেশের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছিল বলে জানা গেছে।
“মানুষ এখন নিজেদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি পুনর্লিখন করছে,” বলেন টিটো মাগোটি।
“দীর্ঘদিন ধরে তানজানিয়ানদের শান্তিপ্রিয় ও সংঘাতবিমুখ হিসেবে দেখা হয়েছে, কিন্তু সেই ধারণা বদলাচ্ছে।”
২০২১ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসান বিরোধীদের ওপর দমননীতি শিথিল ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাড়ানোর জন্য প্রশংসিত হন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অধিকারকর্মী ও বিরোধী নেতারা সরকারের বিরুদ্ধে “সমালোচকদের নিখোঁজ করা” ও “অবৈধ আটক” এর অভিযোগ তুলেছেন।
হাসান গত বছর এসব ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেন, তবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।
সরকারের মুখপাত্র গেরসন মিসিগওয়া ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে জানান, নিরাপত্তার কারণে বৃহস্পতিবার সকল সরকারি কর্মচারীকে ঘরে বসে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তবে যাদের সরাসরি দায়িত্ব পালন প্রয়োজন তাদের কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
প্রধান বিরোধী দল চাদেমা (CHADEMA) নির্বাচনের আগেই বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়েছিল, যেটিকে সমর্থকরা “হাসানের রাজত্বাভিষেকের নাটক” বলে উল্লেখ করেন।
গত এপ্রিল মাসে নির্বাচন কমিশন চাদেমাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে অযোগ্য ঘোষণা করে, কারণ দলটি আচরণবিধিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানায়। একই সঙ্গে এর নেতা টুন্ডু লিসু এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করা হয়।
অন্য বিরোধী দল ACT Wazalendo এর প্রার্থীকেও অযোগ্য ঘোষণা করা হয়, ফলে প্রেসিডেন্ট হাসানের বিপরীতে কেবল ছোট ছোট দলগুলোকেই রেখে দেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।