অনুসরণ করুন
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
Google Play App Store
অন্যান্য উদ্যোগ
ট্রেন্ডিং

বাতিল হচ্ছে অ্যান্ড্রুর ‘প্রিন্স’ উপাধি, ছাড়তে হচ্ছে রাজকীয় বাড়ি

অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর
ফন্ট সাইজ:
Shares

এপস্টেইনের কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার পর থেকে বেকায়দায় থাকা অ্যান্ড্রুকে নিয়ে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয় চলতি মাসের শুরুতে ভার্জিনিয়া জিউফ্রের আত্মজীবনী প্রকাশিত হওয়ার পর।

বিতর্কিত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে বন্ধুত্ব নিয়ে তীব্র সমালোচনার পর ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের ভাই অ্যান্ড্রুর ‘প্রিন্স’ উপাধি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে; সেই সঙ্গে তাকে উইন্ডসরের রয়্যাল লজ থেকে সরে যেতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে বাকিংহাম প্রাসাদ এক বিবৃতিতে বলেছে, এখন থেকে রাজার ভাইকে ‘অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর’ নামে পরিচিত করা হবে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আরও প্রশ্ন ওঠার পর অ্যান্ড্রু তার অন্যান্য রাজকীয় উপাধি, যেমন ‘ডিউক অব ইয়র্ক’ উপাধিটিও ছেড়ে দেন।

বিবিসি লিখেছে, এপস্টেইনের কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার পর থেকে বেকায়দায় থাকা অ্যান্ড্রুকে নিয়ে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয় চলতি মাসের শুরুতে ভার্জিনিয়া জিউফ্রের আত্মজীবনী প্রকাশিত হওয়ার পর।

এ বছরের শুরুতে আত্মহত্যা করা জিউফ্রে তার আত্মজীবনীতে লিখে গেছেন, কিশোরী বয়সে তিনবার তাকে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌনকর্ম করতে হয়েছিল। অ্যান্ড্রু বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন।

অ্যান্ড্রুর উপাধি কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় জিউফ্রের পরিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, “ভার্জিনিয়া নিজের সত্য ও অসাধারণ সাহস দিয়ে এক ব্রিটিশ রাজপুত্রকে পরাজিত করেছেন।”

এর আগে বাকিংহাম প্রাসাদ এক বিবৃতিতে বলে, “রাজা আজ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর উপাধি, মর্যাদা ও সম্মান বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।”

শুধু উপাধি নয়, অ্যান্ড্রুর রাজকীয় বাড়ির বরাদ্দ বাতিলের আনুষ্ঠানিক নোটিস দেওয়ার কথাও সেখানে বলা হয়।

অ্যান্ড্রু এখন স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটের একটি ব্যক্তিগত বাড়িতে চলে যাবেন। রাজা চার্লস ব্যক্তিগতভাবে এর খরচ দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাকিংহাম প্রাসাদের বিবৃতিতে বলা হয়, “অভিযোগগুলো তিনি অস্বীকার করলেও শাস্তিমূলক এ পদক্ষেপ প্রয়োজনীয় মনে করা হয়েছে।”

যে কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকারদের পাশে থাকার কথাও বলা হয়েছে বাকিংহাম প্রাসাদের বিবৃতিতে।

বিবিসি লিখেছে, অ্যান্ড্রুর দুই প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে প্রিন্সেস ইউজিনি ও প্রিন্সেস বিআট্রিস, তাদের রাজকুমারীর উপাধি ধরে রাখবেন এবং অ্যান্ড্রু এখনও সিংহাসনের উত্তরাধিকারের তালিকায় অষ্টম স্থানে রয়েছেন।

ধারণা করা হচ্ছে, অ্যান্ড্রুর সাবেক স্ত্রী সারা ফার্গুসনও রয়্যাল লজ ছাড়বেন এবং নিজের বাসস্থানের ব্যবস্থা করবেন।

এ মাসের শুরুতেও তার নাম ছিল ‘সারা, ডাচেস অব ইয়র্ক’; তবে অ্যান্ড্রু স্বেচ্ছায় ‘ডিউক অব ইয়র্ক’ উপাধি ত্যাগ করার পর তিনি আবার নিজের পারিবারিক নাম ফার্গুসন ব্যবহার শুরু করেছেন।

অ্যান্ড্রুর রাজকীয় উপাধি বাতিলের এই সিদ্ধান্ত এল একাধিক কেলেঙ্কারির পর, যা গত কিছুদিন ধরে রাজপরিবারকে প্রবল চাপের মধ্যে রেখেছে।

জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে অ্যান্ড্রুর সম্পর্ক ঘিরে বিতর্ক আবার জেগে ওঠে জিউফ্রের আত্মজীবনী প্রকাশের পর।

অ্যান্ড্রু বরাবরই জিউফ্রের আনা নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে চলতি মাসে ২০১১ সালের কিছু ইমেইল প্রকাশ্যে আসে। সেখানে দেখা যায় এপস্টেইনের সঙ্গে যে সময় যোগাযোগ বন্ধ হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেছেন, তার কয়েক মাস পরও তাদের মধ্যে যোগাযোগে ছিল।

অ্যান্ড্রুর আর্থিক অবস্থা ও জীবনযাপন নিয়েও নতুন নতুন প্রশ্ন উঠতে থাকে। তিনি যখন আর রাজকীয় দায়িত্বে নেই, তাহলে কীভাবে তিনি বিলাসী জীবনযাপন বজায় রাখছেন, সেই প্রশ্নও তোলা হয়।

অ্যান্ড্রু ২০০৪ সাল থেকে রয়্যাল লজে বসবাস করছেন। ২০০৩ সালে তিনি ক্রাউন এস্টেট থেকে ৭৫ বছরের জন্য ওই বাড়ির বরাদ্দ পান।

উইন্ডসর এস্টেটের গ্রেড-টু তালিকাভুক্ত রয়্যাল লজে রয়েছে মালীঘর, একটি ছোট চ্যাপেল লজ, ছয় শোবার ঘরের একটি কটেজ এবং নিরাপত্তাকর্মীদের থাকার জায়গা।

গত সপ্তাহে লিজচুক্তির কিছু তথ্য প্রকাশ পেলে জানা যায়, অ্যান্ড্রু কেবল নামমাত্র ভাড়া দিতেন। তবে সেই অর্থও তাকে নিয়মিত দিতে হত না, কারণ ভবন সংস্কারের জন্য তিনি মোটা অংকের এককালীন অর্থ দিয়ে রেখেছিলেন, যা ভবিষ্যতের ভাড়া হিসেবে বিবেচিত হবে।

বিবিসি নিউজের দেখা এক নথি অনুযায়ী, অ্যান্ড্রুর বার্ষিক ভাড়া ২ লাখ ৬০ হাজার পাউন্ড ধরা হলেও তিনি আগাম অর্থ দিয়ে ৭৫ বছরের পুরো মেয়াদের ভাড়া থেকে দায়মুক্তি পেয়েছেন। জাতীয় নিরীক্ষা দপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অর্থের মোট পরিমাণ ছিল ৮০ লাখ পাউন্ডেরও বেশি।

২০০৬ সালে অ্যান্ড্রু রয়্যাল লজে এপস্টেইনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তার মেয়ে বিআট্রিসের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে। অথচ তার দুই মাস আগেই যুক্তরাষ্ট্রে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। এ বিষয়ে অ্যান্ড্রুর কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিবিসি লিখেছে, বাকিংহাম প্রাসাদ এখন অ্যান্ড্রুর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা দীর্ঘদিনের কেলেঙ্কারিগুলোর চূড়ান্ত ইতি টানতে চায়।

যুক্তরাষ্ট্র-ভারত ১০ বছর মেয়াদী প্রতিরক্ষা চুক্তি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top