অনুসরণ করুন
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
Google Play App Store
অন্যান্য উদ্যোগ
ট্রেন্ডিং

সামরিক বাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় রেখেছে ত্রিনিদাদ ও টোবাগো

ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস গ্রেভলি
ফন্ট সাইজ:
Shares

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বাহিনীর আঘাত হানার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করলেও ওয়াশিংটনের ক্যারিবীয় অঞ্চলের মিত্র দেশ ত্রিনিদাদ ও টোবোগো তাদের সামরিক বাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় রেখেছে।

দক্ষিণ ক্যারিবীয় সাগরের দ্বীপ দেশ ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর অবস্থান প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলার উপকূল থেকে মাত্র ১১ কিলোমিটার দূরে। ত্রিনিদাদা ও টোবাগোর উপকূলে কিছুদিন ধরে একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ অবস্থান নিয়ে আছে।

শুক্রবার ত্রিনিদাদ ও টোবাগো তাদের সামরিক বাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় রাখে এবং বাহিনীর সব সদস্যকে তাদের ঘাঁটিতে ডেকে পাঠায়, জানিয়েছে আল জাজিরা।

আন্তর্জাতিক একটি বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির সেনাবাহিনীর পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়েছে, ত্রিনিদাদিয়ান বাহিনীগুলোকে ‘সতর্ক অবস্থায়’ রাখা হয়েছে।

ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর গার্ডিয়ান সংবাদপত্র জানিয়েছে, সেনাদের তাদের কর্মস্থলে হাজির হয়ে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার ভেনেজুয়েলা প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস চুক্তি স্থগিত করেছে। এর কারণ হিসেবে প্রতিবেশীর মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস গ্রেভলিকে সমাদরে অভ্যর্থনা জানানোর কথা বলেছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ গ্রেভলি মার্কিন মেরিন সেনাদের নিয়ে ত্রিনিদাদের রাজধানী পোর্ট অব স্পেন-এ পৌঁছে।

যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ক্যারিবীয় সাগরে যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ ও কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড দক্ষিণ ক্যারিবীয় সাগরের পথে আছে। এই বিমানবাহী রণতরীটিকে ভেনেজুয়েলার উপকূলের অদূরে মোতায়েন করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী সেপ্টেম্বরের প্রথমদিকে থেকে দক্ষিণ ক্যারিবীয় সাগরে তাদের কথিত সন্দেহভাজন মাদক নৌযানগুলোতে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে। মার্কিন বাহিনীর এসব হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৪৪ জন নিহত এবং বহু নৌযান ও একটি প্রায় ডুবোজাহাজ ধ্বংস হয়েছে। এসব নৌযানের অনেকগুলো ভেনেজুয়েলার এবং নিহতদের অনেকেই ভেনেজুয়েলান।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো মাদকচক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে অভিযোগ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। মাদুরোকে গ্রেপ্তারে সহযোগিতা করতে পারলে যুক্তরাষ্ট্র উচ্চ আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে। ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন, তিনি সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সিকে (সিআইএ) ভেনেজুয়েলায় গোপন অভিযান চালানোর অনুমতি দিয়েছেন।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের লক্ষ্যস্থল হয়ে আছেন, হোয়াইট হাউজে তার সেই প্রথম মেয়াদ থেকে।

এসব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভেনেজুয়েলা ও প্রতিবেশী কলম্বিয়ার চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে মাদুরো সরকার বলেছে, “যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হল জেনেজুয়েলায় শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য অভিযান চালানোর বৈধতা তৈরি করা। এর চূড়ান্ত লক্ষ্য হল এই দেশের (ভেনেজুয়েলার) সব খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।”

অপরদিকে ত্রিনিদাদ ও টোবাগো বলেছে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের পরিকল্পিত যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নিতে এসেছে যা একটি নিয়মিত ঘটনা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top