অনুসরণ করুন
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
Google Play App Store
অন্যান্য উদ্যোগ
ট্রেন্ডিং

সুদানে নৃশংসতার নিন্দা জানাল ২০টিরও বেশি দেশ

ফন্ট সাইজ:
Shares

সুদানে চলমান সংঘাতে বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে নৃশংসতা ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের নিন্দা জানিয়েছে ২০টিরও বেশি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এসব অপরাধের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, উত্তর দারফুরের এল ফাশার শহর দখলের সময় ও পরে র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (RSF) এর হাতে বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতা নিয়ে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
এছাড়া কর্দোফান ও দারফুর অঞ্চলে যুদ্ধের সম্প্রসারণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

তারা বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা, জাতিগতভাবে অনুপ্রাণিত গণহত্যা, যৌন সহিংসতা, অনাহারকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার এবং মানবিক সহায়তায় বাধা দেওয়া এসবকে “আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের ঘৃণ্য লঙ্ঘন” বলে অভিহিত করেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “এই ধরনের কার্যকলাপ প্রমাণিত হলে তা যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।”

দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “দায়মুক্তির অবসান ঘটাতে হবে এবং অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।”

তারা উল্লেখ করেন, “সুদানের জনগণের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার কেবল আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, এটি একটি নৈতিক দায়িত্বও।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অবরোধ ও সহায়তা নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট ব্যাপক অনাহার ও দুর্ভিক্ষ ‘অসহনীয়’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। কর্তৃপক্ষকে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP), ইউনিসেফ এবং অন্যান্য মানবিক সংস্থাগুলোর ত্রাণ সরবরাহে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্বাক্ষরকারী দেশগুলো সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানায় এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজোলিউশন ২৭৩৬ অনুযায়ী বেসামরিক নাগরিকদের জন্য নিরাপদ পথ ও দ্রুত ত্রাণ প্রবেশের নিশ্চয়তা দাবি করে।

তারা যুদ্ধরত পক্ষগুলিকে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি ও তিন মাসের মানবিক বিরতিতে সম্মত হওয়ার আহ্বান জানায় এবং সুদানকে বিভক্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক করে দেয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা সুদানের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন জানাই এবং দেশের জনগণের শান্তি, মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের অধিকারকে সম্মান করি।”

স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ছিল কানাডা, স্পেন, যুক্তরাজ্য, নরওয়ে, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, সুইডেন, অস্ট্রিয়া, ক্রোয়েশিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, ফিনল্যান্ড, পোল্যান্ড ও সুইজারল্যান্ড।

মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা সব পক্ষকে “আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার” আহ্বান জানিয়ে বলেন, “শুধুমাত্র সুদানি জনগণের মালিকানাধীন একটি বিস্তৃত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া দিয়েই এই সংকটের সমাধান সম্ভব।”

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM) জানায়, ২৬ অক্টোবর থেকে এল-ফাশার শহর দখলের পর ৮৯,০০০ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গেছে, আরএসএফ দখলের পর জাতিগত ভিত্তিতে গণহত্যা চালিয়েছে।

২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে সুদানি সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে চলা যুদ্ধ হাজারো মানুষের প্রাণ নিয়েছে এবং লক্ষাধিক মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে, যা এখনো চলছে।

ব্রাজিলে শুরু হয়েছে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন
যুদ্ধ বিরতির মধ্যেও গাজায় ত্রাণ প্রবেশে ইসরায়েলের বাধা- জাতিসংঘ
ট্রাম্প তথ্যচিত্র ইস্যুতে বিবিসির ক্ষমা, আইনি হুমকি ট্রাম্পের
মার্চের পর প্রথম রপ্তানি পতন, শুল্ক বিরোধে নতুন চাপে চীন
মামদানিকে দেশছাড়া করার পায়তারা ট্রাম্পদলীয় নেতাদের
ট্রাম্প হাঙ্গেরিকে রাশিয়ান তেল নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি দিলেন

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top