বর্তমানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ একটি গুরুত্বপূর্ন রায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বেঞ্চ সোমবার (১৭ নভেম্বর) এই রায় ঘোষণা করেছে।
প্রধান অভিযোগ ও দণ্ড
ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের সর্বমোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছিল এবং প্রতিটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি:
প্রথম অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল প্রমান করেছে যে, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা উস্কানিমূলক ভাষায় আন্দোলনকারীদের “রাজাকারের বাচ্চা, রাজাকারের নাতি-পুতি” বলে সমালোচনা করেন।
এই উক্তি অপরাধ সংঘটনের নির্দেশনার সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং তিনি এটি প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
ট্রাইব্যুনাল তাকে “আমৃত্যু কারাদণ্ড (ইমপ্রিসনমেন্ট টিল ন্যাচারাল ডেথ)” দিয়েছেন।
সত্যিই হত্যার নির্দেশ
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি আন্দোলনকারীদের মোকাবিলায় হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে আন্দোলনকারীদের হত্যা করেছে।
তিনটি অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
চার নম্বর অভিযোগে, গত বছরের পাঁচ আগস্ট রাজধানীর চাঁনখারপুল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্বারা ছয় জনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পাঁচ নম্বর অভিযোগ আশুলিয়াতে জীবিত একজনকে সহ মোট ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে গঠন করা হয়েছে।
১৯৬৭ সালের এই দিনে (১৭ নভেম্বর) শেখ হাসিনা পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ আলী মিয়ার (সুধা মিয়া) সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকে পড়ার সময় তার বিয়ে হয়। ২০০৯ সালের ৯ মে ড. এম এ ওয়াজেদ আলী মারা যান।
ট্রাইব্যুনালের এই রায় রাজনৈতিক এবং আইনগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর এটি শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনাও হতে পারে। মৃত্যুদণ্ডের সিদ্ধান্তে সমাজ ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, বিশেষত মানবাধিকার ও ন্যায্য বিচার সংক্রান্ত।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।