বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি দিন দিন উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। রবিবার আরও আটজনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে নভেম্বর মাসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৬ এ, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ মাসিক মৃত্যু। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্বল মশা দমন কার্যক্রম এবং অপরিকল্পিত নগরায়ন ডেঙ্গু বিস্তারের মূল কারণ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬৪ জনে। আক্রান্তের সংখ্যা ৯০ হাজার ২৬৪-এর বেশি, এবং গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৭৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ইতোমধ্যে ৮৭ হাজার ৪৪২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম, বরিশাল, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সংক্রমণ ও মৃত্যু সমানতালে ছড়িয়ে পড়ছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন,
“জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্বল মশা ব্যবস্থাপনা এবং অপরিকল্পিত নগরায়ন ডেঙ্গু সংক্রমণকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।”
বাংলাদেশে সাধারণত নভেম্বরেই তাপমাত্রা কমতে শুরু করে এবং বর্ষা সেপ্টেম্বরের দিকে শেষ হয়।
কিন্তু বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য মতে, এ বছর অক্টোবরের শেষ দিক পর্যন্ত অব্যাহত ভারী বৃষ্টি হয়েছেযা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
অধ্যাপক বাশার বলেন, “নভেম্বর প্রথমবারের মতো সবচেয়ে মারাত্মক মাসে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘায়িত ও বিলম্বিত বৃষ্টিপাতের কারণেই সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। আবহাওয়া ও তাপমাত্রাও ডেঙ্গুর বিস্তার ও বেঁচে থাকার জন্য খুবই অনুকূল অবস্থায় আছে।”
তার মতে, ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতির সম্ভাবনা নেই।
জানুয়ারি থেকে আক্রান্তের সংখ্যা কমতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ডেঙ্গু-বাহক এডিস মশা সাধারণত ২০–৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
বাংলাদেশে সারা বছরই গড় তাপমাত্রা এই সীমার মধ্যে থাকায় ডেঙ্গুর বিস্তার থামানো কঠিন হয়ে উঠছে।
২০২৩ সালে দেশে ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগীর মধ্যে ১,৭০৫ জনের মৃত্যু হয় যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।