অনুসরণ করুন
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
Google Play App Store
অন্যান্য উদ্যোগ
ট্রেন্ডিং

ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপ নিয়ে মুখ খুললেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নি

ফন্ট সাইজ:
Shares

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, সোমবার রাতে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক দীর্ঘ ও গঠনমূলক ফোনালাপ করেছেন।

মন্ত্রিসভার দুই দিনের বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের তিনি জানান, আলোচনায় বাণিজ্য, ভূ-রাজনীতি এবং শ্রমসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী কার্নি বলেন, আলোচনাটি ছিল “ভালো” এবং এটি কানাডার স্বার্থ রক্ষায় একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।

তিনি আরও জানান, প্রিভি কাউন্সিলের ক্লার্ক মাইকেল সাবিয়া বর্তমানে ওয়াশিংটন ডিসিতে রয়েছেন,
যেখানে তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তবে, এই আলোচনার আগে প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO) কোনও বিবৃতি প্রকাশ করেনি।
সাধারণত এমন ফোনালাপের পর একটি আনুষ্ঠানিক সারসংক্ষেপ প্রকাশ করা হয়, যা ‘রিডআউট’ নামে পরিচিত। তবে কেন এবার সেটি প্রকাশ করা হয়নি, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র অড্রে শ্যাম্পক্স।

তিনি শুধু বলেন, “প্রধানমন্ত্রী সবসময় স্পষ্ট করে বলেছেন যে তিনি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘন ঘন এবং ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রাখছেন, যা শ্রমিক, ব্যবসা এবং সকল কানাডিয়ানের স্বার্থে।”

সংসদ পুনরায় শুরু হওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যে এই মন্ত্রিসভা বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী কার্নি বলেন, বর্তমানে সরকারের অগ্রাধিকার হচ্ছে ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, বনজ পণ্য ও গাড়ি শিল্পসহ গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাতগুলোর জন্য চুক্তি নিশ্চিত করা।

ফরাসি ভাষায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা কিছুটা অগ্রগতি করেছি, তবে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।”

এই বৈঠকে কানাডা-মার্কিন বাণিজ্য বিরোধ মোকাবেলার কৌশল এবং আগামী বছর নির্ধারিত USMCA
(যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তি) পুনঃআলোচনার প্রস্তুতিও আলোচনার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

“আমাদের এই পর্যালোচনার ভিত্তি তৈরি করতে হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে,”— প্রধানমন্ত্রী কার্নি।

গত ২২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, কানাডা কিছু মার্কিন পণ্যের উপর আরোপিত প্রতিশোধমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করছে, যার মাধ্যমে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে স্থগিত থাকা বাণিজ্য আলোচনা আবার শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম এবং গাড়ি শিল্পে প্রতিপক্ষ হিসেবে আরোপিত পাল্টা শুল্ক বহাল রেখেছে কানাডা। এগুলো মার্কিন ‘ধারা ২৩২ শুল্ক’ দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়।

গত সপ্তাহে, কানাডার বাণিজ্য মন্ত্রী ডমিনিক লেব্ল্যাঙ্ক ওয়াশিংটনে মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকটি ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনও চুক্তি হয়নি।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে কানাডা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে সামরিক ও সীমান্ত নিরাপত্তায় ব্যয় বৃদ্ধি এবং মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর থেকে ডিজিটাল পরিষেবা কর প্রত্যাহার।

এ বছরের শুরুতে কানাডা প্রায় ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করে।
তবে কিছু মার্কিন পণ্যের ক্ষেত্রে পরে ছাড় দেওয়া হয়, বিশেষ করে যেগুলো কানাডিয়ান উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় বা যেসব ক্ষেত্রে মার্কিন অটোমোবাইল কোম্পানিগুলোর স্বার্থ জড়িত।

আরো পড়ুন- ‘সব কিছুর দামই তো একটু একটু করে বাড়তাছে কিন্তু আমার আয় তো বাড়ে না’
নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও যেভাবে সামরিক শক্তি অর্জন করেছে ইরান
ভারতবর্ষ ভাগের ৭৮ বছর: ধর্মের ভিত্তিতে কেন ভাগ হয়েছিল ভারত-পাকিস্তান?
সরকার ফোনে আড়ি পাতছেই, চলছে রাষ্ট্রীয় নজরদারি !!
গণ-অভ্যুত্থান থেকে বিএনপি যেভাবে বারবার লাভবান হয়েছে

    মন্তব্য করুন

    খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

    top