অনুসরণ করুন
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
Google Play App Store
অন্যান্য উদ্যোগ
ট্রেন্ডিং

ফরাসি সাবেক প্রেসিডেন্ট সারকোজিকে অবশেষে ৫ বছরের কারাদণ্ড

গাদ্দাফি সরকারের অবৈধ অর্থায়নের অভিযোগে সারকোজির বিরুদ্ধে রায় দেবে প্যারিস আদালত
ফন্ট সাইজ:
Shares

প্যারিস (বিডিএক্সপ্রেস) —

প্যারিসের একটি আদালত বৃহস্পতিবার প্রাক্তন ফরাসি রাষ্ট্রপতি নিকোলাস সারকোজিকে লিবিয়ার তহবিল ব্যবহার করে ২০০৭ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় অর্থায়নের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে।

সারকোজি এই রায়কে “একটি কেলেঙ্কারি” বলে নিন্দা করেছেন।

ঐতিহাসিক ঐ রায়ের পর সারকোজি হলেন আধুনিক ফ্রান্সের প্রথম প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি যিনি অবৈধ বিদেশী তহবিল গ্রহণের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
একটি বিরাট বিস্ময়ের বিষয় হল, আদালত রায় দিয়েছে, ৭০ বছর বয়সী সারকোজির আপিল করার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তাকে কারাগারেই পাঠানো হবে। রায়ে বলা হয়েছে, তার কারাদণ্ড নির্ধারিত তারিখে শুরু হবে। এতে সারকোজি, পুলিশ কর্তৃক জনাকীর্ণ আদালত কক্ষ থেকে বের করে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার মত অপমান থেকে রক্ষা পেলো।

সারকোজিকে ২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত কূটনৈতিক সুবিধা ব্যবহার করে লিবিয়া থেকে তার বিজয়ী রাষ্ট্রপতি প্রচারণায় অর্থায়নের ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকায় অপরাধমূলক যোগসূত্রের জন্য দোষী সাব্যস্ত করেছে প্যারিস আদালত। তবে, তাকে আরও তিনটি অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়, যার মধ্যে রয়েছে নিষ্ক্রিয় দুর্নীতি, অবৈধ প্রচারণায় অর্থায়ন এবং সরকারি তহবিল থেকে আত্মসাৎ

সারকোজি এই রায়কে দেশের জন্য অপমানজনক বলে নিন্দা করেছেন।

“যদি তারা আমাকে কারাগারে ঘুমাতে দেখতে চায়, তাহলে আমি কারাগারে ঘুমাব। কিন্তু মাথা উঁচু করে। আমি নির্দোষ। ” তিনি তার স্ত্রী, (গায়ক এবং মডেল) কার্লা ব্রুনি-সারকোজিকে পাশে রেখে বলেন “, এই অবিচার একটি কলঙ্ক।

গাদ্দাফির অবৈধ অর্থায়নের অভিযোগে সারকোজির বিরুদ্ধে রায় দেবে প্যারিস আদালত
সারকোজি সাথে তার স্ত্রী কার্লা ব্রুনি-সারকোজি

“আমি ফরাসি জনগণকে অনুরোধ করছি – তারা আমাকে ভোট দিক বা না দিক, আমাকে সমর্থন করুক বা না করুক – তারা যেন বুঝতে পারে আমার সাথে কী ঘটেছে। ঘৃণার সত্যিই কোন সীমা নেই”।

“আমাকে কি আপিল আদালতে হাতকড়া পরে হাজির করা উচিত? যারা আমার প্রতি ঘৃণার বর্শবর্তী হয়েছে এবং মনে করেছে এটা আমার জন্য যথেষ্ট অপমানজনক, তারা আসলে ফ্রান্সকেই অপমান করেছে।”

সারকোজির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় প্রধান বিচারক নাথালি গ্যাভারিনো তাকে বলেন, “অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের লক্ষ্য ছিল নির্বাচনী প্রচারণায় আপনাকে সুবিধা দেওয়া” এবং “আপনি যদি প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন, তাহলে সর্বোচ্চ পর্যায়ে দুর্নীতির পথ প্রশস্ত করা”।

এটি “অত্যন্ত গুরুতর” এবং “জনসাধারণের প্রতিষ্ঠানের উপর নাগরিকদের আস্থা নষ্ট করার পক্ষে যথেষ্ট”।

এদিকে সারকোজি স্বয়ং অর্থায়নের ষড়যন্ত্রকে কেবল “একটি ধারণা” বলছেন।

সারকোজি আরও বলেন “আমার দুই কর্মী সদস্যকে আমার প্রচারণার জন্য অবৈধ অর্থায়নের অনুমতি দেয়ার দায়ে আমাকে দোষী সাব্যস্ত করা হচ্ছে”।

আদালত দেখেছে যে সারকোজির রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন তার দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী – প্রাক্তন মন্ত্রী ক্লদ গুয়ান্ট এবং ব্রাইস হোর্তেফিউক্স – অপরাধমূলক সংঘবদ্ধতার জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, তবে তাদের আরও কিছু অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। আদালত হোর্তেফুকে ২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে, তবে জানিয়েছে যে ইলেকট্রনিক মনিটরিং ব্রেসলেট দিয়ে কারাগারের বাইরে সময় কাটানো যেতে পারে। গুয়েন্তকে ৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল কিন্তু স্বাস্থ্যগত কারণে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে কারাদণ্ড দেওয়া হয়নি।

আদালত জানিয়েছে, গুয়েন্ত এবং হোর্তেফু দুজনেই ২০০৫ সালে লিবিয়ার প্রয়াত মোয়াম্মার গাদ্দাফির শ্যালক এবং গোয়েন্দা প্রধান আবদুল্লাহ আল-সেনুসির সাথে গোপন বৈঠক করেছিলেন।

২০১১ সালে এক বিদ্রোহে গাদ্দাফির পতন ও মৃত্যু হয়, যার ফলে উত্তর আফ্রিকার দেশটিতে অর্থাৎ লিবিয়ায় তার চার দশকের শাসনের অবসান ঘটে। আল-সেনুসিকে ১৯৮৮ সালে স্কটল্যান্ডের লকারবিতে প্যান অ্যাম জাম্বো জেট ট্রাজেডি এবং পরের বছর নাইজারে একটি ফরাসি বিমানে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয় – যার ফলে শত শত মানুষ মারা যায়। ২০০৩ সালে, লিবিয়া উভয় বিমান বোমা হামলার দায় স্বীকার করে।

অর্থ আদান প্রদান এবং উল্লেখ্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার এসব ঘটনার মাঝে প্যারিসের আদালত কিছু যোগসূত্র খুঁজে পায়। এসব ঘটনার মাঝে ” নানা রকম চুক্তিনির্ভর দুর্নীতি ” লক্ষ্য করেছে আদালত। অর্থাৎ অর্থায়নের পেছনে ফ্রান্সের ঐ হামলাজনিত কিছু কারণ রয়েছে। আদালতে এও বলা হয়েছে যে, সারকোজি এবং তার সহযোগীরা লিবিয়াকে অনৈতিকভাবে বিচারিক সুবিধা দিয়েছে। যেমন ফ্রান্সের আদালতে আল-সেনোসির বিচারের ফলাফল প্রভাবিত করা, লিবিয়ায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য অর্থায়ন এবং গাদ্দাফির অধীনে লিবিয়াকে একটি পরাধীন রাষ্ট্র হিসেবে রাখতে ফরাসি প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা।

তিনজন বিচারকের ঐ প্যানেলের রায়ে বলা হয়েছে, সারকোজি তার সহযোগীদের “আর্থিক সহায়তা পেতে বা সহায়তা অর্জনের চেষ্টা করার জন্য” লিবিয়ান কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুমতি দিয়েছিলেন। তবে আদালত বলেছে, লিবিয়ার সরকারি তহবিল সারকোজির প্রচারণায় অর্থায়ন করেছে কিনা তা নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায়নি। যদি অর্থ প্রদান নাও করা হয় বা প্রমাণ করা না যায়, তবুও ফরাসি আইন অনুযায়ী একটি দুর্নীতিগ্রস্ত পরিকল্পনা অপরাধ।

আরোও পড়ুন: গাদ্দাফির অবৈধ অর্থায়নের অভিযোগে সারকোজির বিরুদ্ধে রায় দেবে প্যারিস আদালত

সম্পর্কিত বিষয়:

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top