চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের হরিণা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম মো. জাকির হোসেন মিয়াজি (৪৫)। রোববার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাকির হোসেনের মেয়ে স্থানীয় একটি স্কুলে পড়ে। প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া-আসার পথে কয়েকজন যুবক তাকে উত্ত্যক্ত করত। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে নিশ্চিন্তপুর গ্রামের নাছির হোসেন মিয়াজির ছেলে ফাইম মিয়াজী, আইনুল কবির ফটিকের ছেলে মো. সাফিন, নওদোনা গ্রামের মিজান বেপারীর ছেলে রিফাত বেপারী ও মহসিন শিকদারের ছেলে রিয়াদ শিকদারসহ ১০ থেকে ১৫ জন।
এ ঘটনায় জাকির হোসেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবর অভিযোগ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নিশ্চিন্তপুর বাজারে তার ওপর হামলা চালায়। তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। টানা ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার ভোর ৫টার দিকে তিনি মারা যান। এ বিষয়ে চাঁদপুর আদালতে জাকির হোসেনের ছোট ভাই হোসেন মিয়াজি মামলা করেছেন।
নিহতের মেয়ে বলেন, আমি স্কুলে যাওয়া আসার সময় প্রায়ই কয়েকটি ছেলে আমাকে উত্ত্যক্ত করত। বিষয়টি বাবাকে জানালে তিনি স্কুলে অভিযোগ করেন। এর জের ধরেই বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
নিহতের স্ত্রী বলেন, আমার স্বামী একজন কৃষক ছিলেন। মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। আমার ছোট ছোট সন্তান আছে, এখন তাদের নিয়ে আমি কীভাবে বাঁচব? আমি স্বামী হত্যার সঠিক বিচার চাই।
এ বিষয়ে নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আরিফুল্ল্যা বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমাকে কেউ এ বিষয়ে অবহিত করেনি।
মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, আহত অবস্থায় জাকির হোসেন মিয়াজিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নতুন করে হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।