অনুসরণ করুন
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
Google Play App Store
অন্যান্য উদ্যোগ
ট্রেন্ডিং

ট্রাম্পের প্রতি পাল্টা আঘাত ইরানের

ট্রাম্পের প্রতি পাল্টা আঘাত ইরানের
ফন্ট সাইজ:
Shares

পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করার জন্য রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনরালোচনাকে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।

ইরান বলছে এধরনের প্রস্তাব, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করার প্রচেষ্টা মাত্র। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী লারিজানি বলেছেন, ওয়াশিংটনের পরিকল্পনায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা 500 কিলোমিটারের (300 মাইলের কিছু বেশি) নীচে রাখার দাবি করা হচ্ছে – কোনও সম্মানিত ব্যক্তি এধরনের দাবি মানতে পারেনা।

এধরনের চুক্তির আদত গুরুত্ব

২০২৫ সালের শুরুতে ইসরায়েলের সাথে ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরানকে পাঠানো ট্রাম্পের প্রস্তাবপত্রে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করা এবং তার ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা সীমিত করার শর্ত ছিল। সেসব শর্তাবলী ইরান প্রত্যাখ্যান করে। তারপরেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা করে।

ইরানের সামরিক সক্ষমতা ইসরায়েল, উপসাগরীয় রাষ্ট্র এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা হিসাব-নিকাশকে প্রভাবিত করে এবং যেকোনো নতুন সংঘাত, জ্বালানি বাজারকে ব্যাহত করতে পারে। তাছাড়া নতুন সংঘাত বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা আনবে। তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষ প্রকাশ্যে আলোচনা শুরু করলে, আরেকটি সংঘর্ষের সম্ভাবনা রয়েছে।

এক চিঠিতে প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র

মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ট্রাম্প ইরানকে পাঠানো একটি চিঠির কথা বলেন। আমিরাতের একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে পাঠানো ঐ চিঠিতে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, ইরান যদি তার পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করতে রাজি হয় তবে যুক্তরাষ্ট্র পূর্ণ সহযোগিতা করবে। জানা গেছে, আলোচনার জন্য দুই মাসের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইরান যদি অস্বীকৃতি জানায় তবে “সব ধরনের বিকল্প ব্যবস্থার নেয়ার হুশিয়ারি” দেয়া হয়েছে।

ট্রাম্প ইরানকে “বিশ্ব সন্ত্রাসের এক নম্বর পৃষ্ঠপোষক” হিসেবেও আখ্যা দিয়েছেন এবং বলেছেন, ঐ চিঠি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যেই লেখা হয়েছিল।

ইরান কি ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর কম রাখবে

লারিজানির ভাষ্য, আমেরিকা ইরানকে তার ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর ৫০০ কিলোমিটারের কমে সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলেছিল। এধরনের শর্তকে মৌলিকভাবে অগ্রহণযোগ্য বলেছেন লারিজানি। এ দাবি মেনে নিলে ইরানের সার্বভৌমত্ব নষ্ট হবে। ” ক্ষেপণাস্ত্র ” ইরানের প্রতিরোধ কৌশলের মূল ভিত্তি হিসেবে রয়ে গেছে এবং আমেরিকার এধরনের শর্তে সম্মত হওয়া মানে বড় ধরনের আভ্যন্তরীণ আত্মসমর্পণ। তবে, ইরানের এই শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আরও বলেছেন, যদি আলোচনা সত্যিকার অর্থে ন্যায্য হয় এবং জাতীয়-স্বার্থ রক্ষা করে তবে তেহরান আলোচনা করতে রাজি আছে।

লারিজানি পূর্বের ইউরোপীয় এবং রাশিয়ান আলোচনার কথাও তুলে ধরেন। তেহরান ঐ আলোচনার সময়সীমা মাত্র ছয় মাস কেনো, এমন আপত্তিও জানিয়েছিল। লারিজানির যুক্তি, ঐ আলোচনার প্রতিশ্রুতিগুলো ঠিকঠাক রক্ষা না হওয়ায় এবং ঐ পক্ষগুলি জাতিসংঘের স্ন্যাপব্যাক নিষেধাজ্ঞার জন্য চাপ দেওয়ার কারণে আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে যায়।

উল্লেখ্য, স্ন্যাপব্যাক নিষেধাজ্ঞা হলো পারমাণবিক চুক্তি লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের উপর পূর্বে প্রত্যাহার করা জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাগুলোর স্বয়ংক্রিয় পুনর্বহাল প্রক্রিয়া।

খামেনির সরাসরি আলোচনা প্রত্যাখ্যান

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সরাসরি আলোচনার বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন, এধরনের আলোচনাকে “একটি নিছক অচলাবস্থা” হিসাবে অভিহিত করেছেন। মঙ্গলবার সম্প্রচারিত একটি রেকর্ড করা ভাষণে, খামেনি ট্রাম্পের অধীনে মার্কিন পদ্ধতির সমালোচনা করে বলেছেন, “আমেরিকা আলোচনার ফলাফল আগে থেকেই ঘোষণা করেছে… এটি কোনও আলোচনা নয়। এটি একটি ডিক্ট্যাট (স্বৈরতন্ত্র), এক কথায় চাপিয়ে দেওয়া।”

ইরান – আমেরিকার মন্তব্যে কি বোঝা যায়

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি বলছেন, “প্রাথমিক আমেরিকান পরিকল্পনায়, তারা এমন একটি শর্ত দিয়েছিল যা কোনও সম্মানিত ব্যক্তি মেনে নিতে পারে না ; ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর ৫০০ কিলোমিটারের কম করা। কোনও ইরানির পক্ষে কি এমনটি কল্পনা করা সম্ভব?”

রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে বলেন “ইরানের মত বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষককে কখনই সবচেয়ে বিপজ্জনক অস্ত্র রাখার অনুমতি দেওয়া যাবে না। সেকারণেই, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই, আমি তথাকথিত সর্বোচ্চ নেতার কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলাম, যেখানে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করার বিনিময়ে আমি পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। শাসকগোষ্ঠীর উত্তরে বোঝা যায়, তারা (ইরান) প্রতিবেশী এবং সমগ্র অঞ্চল জুড়ে মার্কিন স্বার্থের জন্য হুমকিস্বরুপ হয়ে থাকতে চায় এবং কাছাকাছি কিছু মহান দেশের জন্যও হুমকি হয়ে থাকবে।”

উল্লেখ্য, এখানে হুমকি বলতে ট্রাম্প বুঝিয়েছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং মহান দেশগুলো বলতে (ইসরায়েল, উপসাগরীয় রাষ্ট্র এবং প্রতিবেশী দেশগুলোকে) বুঝিয়েছেন যেখানে সম্ভবত মার্কিন সামরিক ঘাটি এবং নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

এরপর কী হবে

তেহরান প্রকাশ্যে ক্ষেপণাস্ত্র নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান এবং সরাসরি আলোচনা প্রত্যাখ্যান করার ফলে, কূটনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে। ইউরোপ, রাশিয়া বা উপসাগরীয় মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পুনরায় মধ্যস্থতার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে নিষেধাজ্ঞা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক সংঘর্ষ বা অতিরিক্ত হামলার ঝুঁকি এখনও বেশি।

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও যেভাবে সামরিক শক্তি অর্জন করেছে ইরান

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top