২১ আগস্ট, ২০২৫
ইসরায়েল গাজা সিটির ওপর নতুন করে সেনা অভিযান চালানোর ঘোষণা এবং পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণের অনুমোদনের মাধ্যমে আবারও মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।
এসব সিদ্ধান্ত সরাসরি শান্তি প্রক্রিয়াকে বিপন্ন করছে বলে মন্তব্য করেছেন জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি।
মস্কো সফরকালে সাফাদি বলেন, “ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সকল সম্ভাবনাকে ধ্বংস করছে।”
তাঁর এই বক্তব্য এসেছে এমন এক দিনে, যখন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ আনুষ্ঠানিকভাবে গাজা সিটি পুনর্দখলের পরিকল্পনায় অনুমোদন দেন।
ইসরায়েলের নতুন পরিকল্পনাকে “প্রকৃত বিপর্যয়” হিসেবে বর্ণনা করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই আক্রমণ “এই অঞ্চলকে স্থায়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে।”
ইউরোপের ঘনিষ্ঠ মিত্র জার্মানিও এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছে।
জার্মান সরকারের মুখপাত্র স্টিফেন মেয়ার বলেন, “এই পদক্ষেপগুলি কীভাবে জিম্মিদের মুক্তি বা যুদ্ধবিরতির দিকে নিয়ে যাবে, তা বোঝা ক্রমেই কঠিন হচ্ছে।”
বার্লিন স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা গাজায় ইসরায়েলের অভিযানের বিস্তারকে সমর্থন করে না।
উল্লেখযোগ্যভাবে, সপ্তাহের শুরুতে হামাস এবং গাজার অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে – যা ইসরায়েল পূর্বে গ্রহণ করা একটি চুক্তির সঙ্গেও সঙ্গতিপূর্ণ।
অথচ, এই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে ইসরায়েল এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এছাড়া ইসরায়েলের পরিকল্পনা কমিটি পূর্ব জেরুজালেমের পাশে বিতর্কিত E1 অঞ্চলে একটি নতুন বসতি ব্লক নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে। এটি পশ্চিম তীরকে কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত করবে, যার ফলে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ সম্প্রতি ৩,৪০০টি নতুন বাড়ি নির্মাণের প্রস্তাবে সমর্থন দেন। এই বসতি প্রকল্পটি জেরুজালেম ও মালে আদুমিম বসতির মাঝে অবস্থিত জমিতে গড়ে তোলা হবে।
মালে আদুমিমের মেয়র গাই ইফ্রাচ বুধবার ঘোষণা করেন, “আমি আনন্দের সাথে জানাচ্ছি, কিছুক্ষণ আগে বেসামরিক প্রশাসন E1 পাড়ার নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে।”
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এই বসতি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের দুই-রাষ্ট্র সমাধানের আশা চূর্ণ হয়ে যাবে।”
ইসরায়েলের ৬০,০০০ রিজার্ভ সেনাকে পুনরায় ডাকার ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আরও ২০,০০০ সেনার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ইসরায়েলের অভ্যন্তরে যুদ্ধবিরতির দাবিতে লক্ষ লক্ষ মানুষ রাস্তায় নেমেছে।
জিম্মিদের পরিবার এবং প্রাক্তন সেনা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা গাজা সিটিতে অভিযানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তারা আশঙ্কা করছেন, এতে গাজায় থাকা প্রায় ৫০ জন জিম্মিকে মুক্ত করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে পারে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ মনে করে, তাদের মধ্যে ২০ জন এখনো জীবিত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সেনা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “আমরা গাজা শহরের সেই অংশে অভিযান চালাব, যেখানে এখনো সেনা মোতায়েন করা হয়নি এবং যেখানে আমাদের বিশ্বাস, হামাস এখনো সক্রিয়। আমাদের মূল লক্ষ্য থাকবে হামাসের ভূগর্ভস্থ টানেল নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা।”
এই অভিযান শুরু হতে এখন মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা, যা কয়েক মাসের মধ্যে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় সামরিক প্রস্তুতি।
ইসরায়েলি বসতি-বিরোধী সংগঠন ‘ইর আমিম’-এর প্রধান আভিভ তাতারস্কি বলেন, “আজকের অনুমোদন প্রমাণ করে যে ইসরায়েল ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের সম্ভাবনাকে কবর দেওয়ার কৌশলগত কর্মসূচি বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”
তিনি আরও বলেন, “এটি একটি বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য ইসরায়েলিদের সচেতন সিদ্ধান্ত।” আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আরো পড়ুন- ভয়াবহ অভিযানের দ্বিতীয় ধাপ অনুমোদন, গাজার পথে ৬০ হাজার ইসরায়েলি সেনা
মুম্বাইয়ে ভারী বৃষ্টিপাতে ৪ দিনে ২১ প্রাণহানি, রেড অ্যালার্ট জারি
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, অভিযোগ নেতানিয়াহুর
গাজায় ত্রাণ প্রবেশে ইসরায়েলের বাধা: মানবিক সহায়তা থেমে যাচ্ছে সীমান্তে
পুতিন ও জেলেনস্কির মধ্যে শান্তি চুক্তির জন্যে বৈঠক আয়োজনে কাজ শুরু করেছি: ট্রাম্প
নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তে সবাই অসন্তুষ্ট, তবু এগিয়ে যাচ্ছে গাজা দখলের পরিকল্পনা
ইসরায়েলের ফিলিস্তিন দখল পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও ঘর ছাড়তে অস্বীকৃতি গাজাবাসীর
আলোচনা ব্যর্থ, রুশ তেল আমদানি চালিয়ে গেলে ভারতকে ৫০% শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।