অনুসরণ করুন
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
Google Play App Store
অন্যান্য উদ্যোগ
ট্রেন্ডিং

গাদ্দাফির অবৈধ অর্থায়নের অভিযোগে সারকোজির বিরুদ্ধে রায় দেবে প্যারিস আদালত

গাদ্দাফি সরকারের অবৈধ অর্থায়নের অভিযোগে সারকোজির বিরুদ্ধে রায় দেবে প্যারিস আদালত
ফন্ট সাইজ:
Shares

প্যারিস (বিডিএক্সপ্রেস) —

প্রাক্তন ফরাসি রাষ্ট্রপতি নিকোলাস সারকোজিকে ২০০৭ সালে তার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনী প্রচারণার জন্য গোপনে প্রয়াত মোয়াম্মার গাদ্দাফির লিবিয়ান সরকারের তহবিল ব্যবহারের অভিযোগ আসে।

প্যারিসের আদালত সারকোজিকে দোষী সাব্যস্ত করলে তার ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫) রায় ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দোষী সাব্যস্ত হলে, ৭০ বছর বয়সী সারকোজি হবেন প্রথম প্রাক্তন ফরাসি রাষ্ট্রপতি যিনি অবৈধ বিদেশী তহবিল গ্রহণের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।

২০০৭ সালে নির্বাচিত হয়ে ২০১২ সালে পুনর্নির্বাচনে হেরে যান সারকোজি। এবছরের শুরুতে তিন মাসের বিচার চলাকালীন সমস্ত অন্যায় অস্বীকার করেছেন, জিজ্ঞাসিত সেসব অপরাধে তিনজন প্রাক্তন মন্ত্রী সহ ১১ জন সহ-আসামিও জড়িত ছিলেন।

গাদ্দাফির অবৈধ অর্থায়নের অভিযোগে সারকোজির বিরুদ্ধে রায় দেবে প্যারিস আদালত
সারকোজি সাথে তার স্ত্রী কার্লা ব্রুনি-সারকোজি, ছবি: AP

একাধিক আইনি কেলেঙ্কারি সত্ত্বেও গায়ক এবং মডেল কার্লা ব্রুনি-সারকোজির সাথে তার বিবাহের কারণে সারকোজি ফ্রান্সের ডানপন্থী রাজনীতি এবং বিনোদন মহলে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে রয়ে গেছেন।

প্যারিসের আদালত যদি সারকোজিকে দোষী সাব্যস্তও করে, সারকোজি সে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেন, এতে আপিলের আগে স্থগিত হবে সাজা। যদিও সাত বছরের কারাদণ্ডের পক্ষে যুক্তি দেখিয়েছেন প্রসিকিউটররা।

লিবিয়ার অর্থায়নের অভিযোগ

২০১১ সালে, লিবিয়ার একটি সংবাদ সংস্থার সাক্ষাৎকারে গাদ্দাফি নিজেই বলেছিলেন, “লিবিয়ান রাষ্ট্র গোপনে সারকোজির ২০০৭ সালের প্রচারণায় লক্ষ লক্ষ ইউরো ঢুকিয়েছে”। তখন থেকেই অভিযোগের সূত্রপাত।

২০১২ সালে, ফরাসি তদন্তকারী সংবাদমাধ্যম মিডিয়াপার্ট একটি লিবিয়ার গোয়েন্দা স্মারক প্রকাশ করে। ঐ স্মারকে ৫০ মিলিয়ন ইউরোর তহবিল চুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়। সারকোজি নথিটিকে জাল বলে নিন্দা করেন এবং মানহানির মামলা করেন।

ফরাসি ম্যাজিস্ট্রেটরা পরে বলেন যে স্মারকটি খাঁটি বলে মনে হচ্ছে, যদিও তিন মাস ধরে প্যারিসের বিচারে সম্পূর্ণ লেনদেনের কোনও চূড়ান্ত প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

তদন্তকারীরা ২০০৫ এবং ২০০৭ সাল পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন সারকোজির ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের লিবিয়া ভ্রমণের একটি সিরিজও খতিয়ে দেখেছেন, যার মধ্যে তার প্রধান কর্মীও ছিলেন।

২০১৬ সালে, ফ্রাঙ্কো-লেবানিজ ব্যবসায়ী জিয়াদ তাকাইদ্দীন মিডিয়াপার্টকে বলেছিলেন যে তিনি ত্রিপোলি থেকে নগদ অর্থ ভর্তি স্যুটকেস সারকোজির অধীনে ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে দিয়েছিলেন। পরে অবশ্য তিনি তার ঐ বক্তব্য প্রত্যাহার করেন।

এধরনের কর্মকান্ডের পর সম্ভাব্য সাক্ষীদের চাপ দেওয়া হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে পৃথক তদন্ত হয়। সারকোজি এবং তার স্ত্রী কার্লা ব্রুনি-সারকোজি উভয়কেই তাকাইদ্দীনকে চাপ দেওয়ার অভিযোগে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। সেই মামলাটি এখনও বিচারে যায়নি।

তার আইনজীবী এলিস আরফি বলেন, সহ-আসামিদের একজন তাকাইদ্দীন মঙ্গলবার লেবাননের বৈরুতে (Beirut) মারা যান। তার বয়স ছিল ৭৫। তিনি ২০২০ সালে লেবাননে পালিয়ে গিয়েছিলেন এবং বিচারে উপস্থিত হননি।

সারকোজির বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয় দুর্নীতি, অবৈধ প্রচারণায় অর্থায়ন, সরকারি তহবিল আত্মসাৎ এবং অপরাধমূলক সংঘবদ্ধতার অভিযোগে বিচার করা হয়েছিল। প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেছেন যে সারকোজি গাদ্দাফির সরকারের সাথে “দুর্নীতির চুক্তি” হিসাবে যা বর্ণনা করেছেন তা থেকে জেনেশুনে লাভবান হয়েছেন।

২০১১ সালে এক বিদ্রোহে লিবিয়ার দীর্ঘকালীন মোয়াম্মার গাদ্দাফি সরকারকে উৎখাত ও হত্যা করা হয়, যার ফলে উত্তর আফ্রিকার দেশটিতে তার চার দশকের শাসনের অবসান ঘটে।

সারকোজি বলছেন এটি একটি ‘ষড়যন্ত্র’

বিচারকার্যে ২০০০-এর দশকে লিবিয়ার সাথে ফ্রান্সের নেপথ্য আলোচনাগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তখন গাদ্দাফি পশ্চিমাদের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করতে চেয়ছিলেন। এর আগে, লিবিয়াকে একটি বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করা হত।

সারকোজি এই অভিযোগগুলিকে রাজনৈতিকভাবে অনুপ্রাণিত এবং জাল প্রমাণের উপর নির্ভরশীল বলেছেন। বিচার চলাকালীন, তিনি বলছেন এটি “গাদ্দাফি পন্থীদের” সহ “মিথ্যাবাদী এবং দুষ্টচক্রের” একটি ‘ষড়যন্ত্র’।

তিনি আরোও বলছিলেন, গাদ্দাফিকে অপসারণের জন্য তার (সারকোজির) আহ্বানের কারণেই প্রচারণায় অর্থায়নের অভিযোগগুলো তার প্রতি প্রতিশোধ হিসেবে দায়ের করা হয়।

২০১১ সালে “এরাব স্প্রিং” গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভ যখন আরব বিশ্বকে গ্রাস করেছে, তখন লিবিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য চাপ দেওয়া প্রথম পশ্চিমা নেতাদের মধ্যে সারকোজি ছিলেন একজন

“প্রতিহিংসাপরায়ণ এধরনের অফিযোগ/ বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা কী হতে পারে?” বিচার চলাকালীন মন্তব্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন সারকোজি।

গাদ্দাফির অবৈধ অর্থায়নের অভিযোগে সারকোজি
লিজিওন অফ অনার, ছবি: উইকিপিডিয়া / wikipedia

লিজিয়ন অফ অনার প্রত্যাহার

জুন মাসে, সারকোজিকে একটি পৃথক মামলায় দোষী সাব্যস্ত করার পর ফ্রান্সের সর্বোচ্চ পুরষ্কার – লিজিয়ন অফ অনার পদক ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

এর আগে, ২০১৪ সালে একটি আইনি মামলার তথ্যের বিনিময়ে একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে ঘুষ প্রদানের চেষ্টার জন্য দুর্নীতি এবং প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল, যেখানে তিনি সত্যিই জড়িত ছিলেন।

সারকোজিকে এক বছরের জন্য ইলেকট্রনিক মনিটরিং ব্রেসলেট পরার শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। মে মাসে তার বয়সের কারণে তাকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, তিন মাসের কিছু বেশি সময় ধরে ইলেকট্রনিক ট্যাগটি পরার পরে তা সরিয়ে ফেলার অনুমতি দেয়া হয়েছিল।

আরেকটি মামলায়, সারকোজিকে গত বছর ২০১২ সালের পুনর্নির্বাচনের ফেইল্ড (ব্যর্থ) বিডের সময় অবৈধ প্রচারণার অর্থায়নের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনি পরিমাণের প্রায় দ্বিগুণ ব্যয় করার অভিযোগ আনা হয়েছিল এবং তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে ছয় মাস স্থগিত করা হয়েছিল।

তবে সারকোজি মৌখিকভাবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি সেই রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেছেন এবং সেই আপিল বিচারাধীন রয়েছে।

মারা গেছেন সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top